নিউমার্কেট দুই নম্বর গেট… জনৈক কোন পথচারীর ঘামের গন্ধ নেমে নেমে আসতে চায়।
ঘামের গন্ধ পেছনে ফেলে অবশেষে আমরা রিকশায় উঠে যাই… আহা।
আমি আর জনৈক বালিকা।
পাশে বহু আরাধ্য রিকশা সঙ্গিনী বালিকা… সামনে অনেক বালক- অনেক বালিকাকে প্রতিনিয়ত টেনে
চলা রিকশাওয়ালা।
আমি বালিকার দিকে একটু হাসি… বালিকাও হাসে…
সাথে সাথে রিকশার হুড তুলে দেওয়ার কথা আমার মনে আসে।
আমি রিকশা টেনে চলা মানুষটাকে বলি… মামা
হুডটা একটু তুলে দিন না।
সাথে সাথে শুক্রবার সকালের মত বালিকার কণ্ঠ শোনা যায়…
এই… থাক থাক… কী দরকার!
আর কয়েকটা দিন যাক …
তারপর না হয় আমরা… রিকশার হুড তুলে দিব।
আমি ভেড়ার মত মুখ করে বসে থাকি একটুক্ষণ…
ভেড়া আমি আর জনৈক বালিকাকে পিঠে নিয়ে রিকশা ছুটে চলে…
শাহবাগের মোড়… ধানমণ্ডি সাতাশ…
মাঝপথে কোন স্পীড ব্রেকার কিংবা এবড়োথেবড়ো পথের আক্রমণে
বালিকার সাথে আমার- আমার সাথে বালিকার ছোঁয়া লাগে…
বালিকা শুক্রবারের সকাল হয়ে বলে ওঠে… সরি।
কয়েক মাইল পথে আমাদের কয়েক হাজার সরি বলা হয়ে যায়…
মন আমার চিৎকার করে উঠে…
আর কতবার সরি বললে… আমি তোমার…
শরীর ছোঁয়ার অধিকার লাভ করব!
আমি রিকশার হুড তুলতে পারব।
রিকশা ছুটে চলে… পিঁপড়ার মত করে…
হঠাৎ করে আকাশ থেকে টপটপ বৃষ্টি নেমে আসে আশীর্বাদ নিয়ে…
আমি চেঁচিয়ে উঠি সেই ভেড়ার কণ্ঠ সাথে করে…
এই বৃষ্টিতে ভিজছ ত… ঠাণ্ডা লাগতে পারে…
এখন হুড তুলতে বলি?
বালিকা একটু হাসে… বাঁকা বাঁকা হাসি…
হাতের ছোট্ট ব্যাগ থেকে বালিকা কালো একটা ছাতা বের করে আনে…
বৃষ্টির ফোঁটা আরো তীব্র বেগে আমাদের রিকশার ছাদে…বালিকার কোলে আশ্রয় নেয়।
জনৈক বালিকা… কালো ছাতা মাথার ওপর মেলে ধরে আমাদের…
আমি ভেড়া… মনে মনে কাঁদি আর ভাবি…
এত বিশাল ছাতা…এত ছোট্ট ব্যাগে ধরল কী করে!