bokashoka

আড়াল

In Uncategorized on মে 9, 2008 at 1:05 pm


ভদ্রলোক বারান্দায় আরাম কেদারাতে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। সকাল আটটার মত হবে। মেঘেদের আজ বুঝি ছুটি হয়েছে। কয়েক ফোঁটা রোদ্দুর এসে খবরের কাগজের অক্ষরের সাথে মিশে যাচ্ছে। এমন সময় একটা মেয়ে এসে বারান্দার সামনে দাঁড়াল। হাতে একটা কাগজ। ভদ্রলোক বিরক্ত হলেন। নীচ তলায় বাসা হওয়ায় এই এক সমস্যা। যখন তখন ভিক্ষুক-টিক্ষুক এসে হাত বাড়িয়ে দেয়। ভদ্রলোক বিরক্তি না চেপেই বললেন…
- কী চাই?
এইসব মানুষদের সাথে মনের ভাব আড়াল করতে হয় না।
মেয়েটা মাথা নীচু করে থাকল। অনেকদিন পর জোরেই রোদ নামবে বোধহয়। মেয়েটা মাথা নীচু করেই কথা বলল…
- স্যার। আমার মায়ের খুব অসুখ। টাকার জন্য চিকিৎসাটাও ঠিকমত করা হচ্ছে না। যদি কিছু সাহায্য করতেন।
কথাটা বলতে বলতেই মেয়েটা কেঁদে ফেলল আর হাতের কাগজটা বাড়িয়ে দিল। ভদ্রলোক পাত্তা দিলেন না। মুহুর্তের মধ্যে চোখে জল নিয়ে আসা- এইসব মানুষদের একটা বড় গুণ। ভদ্রলোকের বিরক্তি একেবারে রোদ্দুরের মতই ফেটে উঠল। তিনি মেয়েটাকে জোরে একটা ধমক দিলেন। এইসব মানুষদের একটা ধমক দিলে কাজ হয় না। এই মেয়েটার ক্ষেত্রে হল। ভদ্রলোক অবাক হয়ে দেখলেন মেয়েটা মাথা নীচু করে চলে যাচ্ছে। না! আজ ভালোই রোদ পড়ছে।

কয়েকদিন পর এক- বিকেলের দিকে ভদ্রলোক বের হলেন। বাসের টিকেট কেটে একটা সিগারেট ধরালেন। বেনসন সিগারেট। বাসস্ট্যাণ্ডের ঠিক পাশেই কয়েকটা ছেলে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটা মালাই আইসক্রীম নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। কমবয়েসী একজন আইসক্রীমের ভাগ না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেছে। ভদ্রলোক সেদিকে তাকালেন না। তাকানোর কোন মানে হয় না!
বাস চলে এল। ভদ্রলোক সিগারেট পুরোটা শেষ করতে পারলেন না। স্যাণ্ডেলের নীচে পিষে ফেললেন। একটা মালাই আইসক্রীমের দাম দুই টাকা। একটা বেনসন সিগারেটের দাম চার টাকা। ভদ্রলোকের পায়ের নীচে পিষে যাওয়া অর্ধেক টুকরো দুই টাকাই হবে বোধহয়।

বাস থেকে নেমে ভদ্রলোক হাঁটলেন। একটা দালানের সামনে এসে দাঁড়ালেন। গেটের সামনে দাঁড়ানো কালো গোঁফওয়ালা লোকটা ভদ্রলোকের সামনে এসে নীচু গলায় বলল…
- স্যার। আইজকা নতুন জিনিস আসছে। এক্কেবারে টাটকা। আপ্নের জন্য রাইখা দিছি। অনেকে চাইছিল। দেই নাই।
ভদ্রলোক কিছু বললেন না। একটু তৃপ্তির হাসি হেসে পকেট থেকে বিশ টাকা বখশিস গোঁফওয়ালা লোকটার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। গোঁফওয়ালা লোকটা তাকে একটা ঘরে নিয়ে গেল।

ঘরটা অন্ধকার। বাইরের রোদ্দুরের এই ঘরে আসার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু এইসব মুহুর্তে অন্ধকার ঘর ভদ্রলোকের ভালো লাগে না। ঘরে ঢুকেই ভদ্রলোক বাতি জ্বালালেন।

সেদিনের সেই কান্নাভেজা মুখ নিয়ে সেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে।

আশ্চর্য! মেয়েটা কাঁদার সময় কোন শব্দই হয় না!