bokashoka

উচিত শিক্ষা……………

In গল্প on মার্চ 15, 2008 at 2:15 pm


[ সত্য ঘটনা অবলম্বনে। কিন্তু বিশেষ কারো নাম এবং চরিত্রের সাথে গল্পের বিশেষ কারো নাম এবং চরিত্র মিলে গেলে- ব্যাপারটা মোটেই কাকতালীয় হবে না এবং লেখক বিন্দুমাত্র দায়ী থাকবেন না]]

কর্মঃ

বর্তমানে আমার নাম ঊর্মি। ”বর্তমানে” বললাম এ কারণে- পানি যেমন বিভিন্ন পাত্রে গেলে বিভিন্ন আকার ধারণ করে- ঠিক তেমনি বাংলাদেশে বিভিন্ন ছেলের কাছে আমি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমনঃ ঢাকা ইউনিভার্সিটির শাকুর আমাকে ‘নাবিলা সোনা’ ডাকে কিংবা নর্থ সাউথের জামিল গত দুই বছর ধরে আমাকে ‘দিয়া’ নামে ডেকে আসছে। তবে সবগুলো নামকেই আমার নিজের নাম বলে মনে হয়। ছেলেগুলো এত আপন ভাবে ডাকে। ভালো না লেগে উপায় আছে!

গতকাল একটা ছেলের সাথে ‘উর্মি’ নামে পরিচিত হলাম।
রাত একটার দিকে উর্মি নামে বিডি চ্যাটে লগ-ইন করলাম। যথারীতি ঢোকার সাথে সাথে হাজার হাজার নক হলো। অন্যান্য মেয়েদের দেখেছি- এসবে বিরক্ত হয়। কিন্তু আমার ভীষণ মজা লাগে। ”বিডি চ্যাট” উইন্ডোর নিচের দিকে হাজার হাজার ট্যাব লাল বাতির মত জ্বলতে থাকে। দারুণ ইন্টারেস্টিং। আমি অবশ্য সবগুলোর রিপ্লাই দেই না। প্রথম পাঁচটা শুধু দেখি। কিছুক্ষণ গল্প করি। আর গল্প করে ভালো লাগলে- মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান করি। কয়েকদিন কথা বলি। তারপর একদিন যখন- ছেলেগুলো পাগলামির শেষ সীমায় পৌঁছে যায়- তখন কথা বলা বন্ধ করে দিই এবং মোবাইল নাম্বার পাল্টিয়ে ফেলি। শাকুর- জামিল এবং আমার অন্যান্য ”টেস্ট” পার্টনার যারা আছে তারা জিজ্ঞেস করে।
- কী ব্যাপার- নাবিলা বারবার নাম্বার চেঞ্জ করো কেন?
কিংবা—- দিয়া। তোমার কী হইছে বলো তো? দুইদিন পর পর সীম চেঞ্জ কর!
আমি আমার মায়াময় হাসিটা মুখে এনে বলি।
- কী করব বল? ছেলেরা এত বেশি ডিস্টার্ব করে!
আমার ”টেস্ট পার্টনার”রা তাদের গার্লফ্রেন্ডের এই ডিস্টার্ব হওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। আর ছেলেরা কেন এত ”লুইচ্চা” হয় তার মর্মোদ্ধার করার চেষ্টা করে।

ছেলেটার নাম আকিদ। ‘ভালো ছেলে’ টাইপের। বোকা বোকা কথা বার্তা শুনলে বোঝা যায় মেয়েদের সাথে কখনো তেমন একটা কথা বার্তা বলে নি। সাধারণত সবাই প্রথমে ”হাই” কিংবা ”হ্যালো” এই ধরণের কিছু একটা লিখে। আকিদ লিখেছে – মন ভালো?
কাকতালীয় ঘটনাই বলতে হবে। কোন কারণে গতকাল আমার মনটা তেমন একটা ভালো ছিল না। আমি লিখলাম- তেমন একটা ভালো না।
আকিদের সাথে রাত একটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চ্যাট করলাম। বিশেষ বিশেষ অংশ গুলো নিচে তুলে দিলাম।

আকিদঃ মন ভালো না কেন বলবা? অবশ্য- তুমি যদি বলতে চাও।
আমিঃ এমনি। কোন কারণ নেই। আমার মাঝে মধ্যে এমন হয়। কোন কারণ ছাড়াই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়।
আকিদঃ সব মানুষেরই বোধহয় এমন হয়। আমারও মাঝে মধ্যে হয়।
আমিঃ তোমার নাম কি?
আকিদঃ নাম কি মানে? আইডিতে দেখছ না? আকিদ।
আমিঃ সরি। চ্যাট রুমে সাধারণত সবাই মিথ্যা নাম দেয়। রাগ করনি তো?
আকিদঃ আমি অন্য সবার মত না। শুধু শুধু একটা মিথ্যা বলতে যাবো কেন?
আমিঃ সরি। আকিদ।
আকিদঃ কেন? তুমি মিথ্যা নাম নিয়েছ নাকি?
আমিঃ না।
আকিদঃ গুড।
……………………………………
আমিঃ কী কর তুমি?
আকিদঃ কিছু না। আবার অনেক কিছু। গান বাজনা করি- অনেক বই পড়ি আর সারাদিন সিগারেট খাই।
আমিঃ WOW! thats’ cool. তবে সিগারেট বেশি খাওয়া কিন্তু ভালো না! শরীর খারাপ করবে।
আকিদঃ হা হা হা।
আমিঃ হাসছ কেন?
আকিদঃ এমনি। তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে- আমি তোমার কতদিনের চেনা।
আমিঃ তুমি গান কর?
……………………………………
আমিঃ এখন একটা কথা বলব। তুমি কিন্তু একদম রাগ করতে পারবা না!
আকিদঃ বল।
আমিঃ আগে বল- রাগ করবা না।
আকিদঃ ওকে। করব না।
আমিঃ আমার নাম নুপূর।
আকিদঃ হুঁ।
আমিঃ রাগ করলা?
আকিদঃ না…
আমিঃ তোমার ফোন নাম্বার দিবা?
……………………………………
( চ্যাটিং-এর এই অংশ ইয়াহু মেসেঞ্জারে।)
আমিঃ তোমার ছবি পাঠাও না!
আকিদঃ প্রথমে তুমি পাঠাও।
আমিঃ উঁহু। আমি ফার্স্টে বলেছি।
আকিদঃ ওকে। ওয়েট।

প্রসেসঃ

আকিদের সাথে চ্যাটিং করে এবং ছবি দেখে আমার কেমন যেন লাগল। যেমন আগে কখনো লাগে নি। আমরা প্রায় প্রত্যেকদিন চ্যাট করা শুরু করলাম। আকিদ ফোন নাম্বার দিলেও এখনো পর্যন্ত আমার সাথে কথা বলে নি। শুধু মাঝে মধ্যে এসএমএস পাঠায়। কী সুন্দর সব এসএমএস! পড়লে মনটা কেমন জানি করে। এবং আমি বুঝতে পারলাম আমি জীবনে দ্বিতীয়বারের মত কাউকে ভালোবাসলাম। আমি জানি আমি বোকার মত একটা কাজ করেছি। একটা মানুষকে না দেখে- ভালো করে না বুঝে তাকে ভালোবাসা যায় না।
আমার ”টেস্ট পার্টনার” দের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। ওরা অনেক রকম প্রশ্ন করার চেষ্টা করল। আমি কিছুই বললাম না। শুধু সীম চেঞ্জ করলাম। একদিন ওকে এসএমএস করলাম।
” তুমি আমার সাথে কথা বল না কেন?”
” আমি ঠিক করেছি যেদিন আমরা দুজন পরস্পরকে পুরোপুরি ভাবে জানতে পারব সেদিন আমরা কথা বলব।”
এবং একদিন আকিদ আমার সঙ্গে কথা বলল। মনে হল এমন একটা ছেলের সাথে কথা বলার জন্যই এতদিন অপেক্ষা করেছি।

ফলঃ

আমি আমার ইউনিভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। BRAC UNIVERSITY। আমার বুকটা প্রচণ্ড রকম কাঁপছে। আগেও হাজার হাজার ছেলের সাথে আমি দেখা করেছি। কখনো এরকম হয় নি। তবে আমি ঠিক ঠিক জানি আমাকে পরীর মত লাগছে। আকিদ এখনো আসে না কেন?

অবশেষে আকিদ আসল। আমি অবাক হয়ে আকিদকে দেখলাম এবং আরো বেশি অবাক হয়ে দেখলাম- আকিদের সঙ্গে আরেকটা ছেলে। ছেলেটাকে আমি চিনতে পারলাম। ছেলেটা ওদের একজন- যাদের সঙ্গে আমি “ওয়ানডে” খেলেছিলাম। ছেলেটাই প্রথমে কথা বলল-
- hey bitch…
আমি সবকিছু বুঝে ফেললাম। সবকিছু।
আকিদ বলল।
- get lost, আর যাওয়ার আগে সাদমানের পায়ে ধরে ক্ষমা চাও।

আমি চলে আসছি। আমার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। পেছন থেকে ঐ ছেলেটার কণ্ঠ ভেসে আসছে।
- রাজীব দোস্ত। উচিত শিক্ষা হইছে

  1. এটাও সুন্দর লেখা!

    আচ্ছা, এইরকম মেয়ে আসলেই আছে নাকি? দুনিয়া কোন দিকে যাইতেছে খোদা?

All comments are screened for appropriateness. Commenting is a privilege, not a right. Good comments will be cherished, bad comments will be deleted.