bokashoka

ওহে বেকুব! দেশীয় ঐতিহ্যানুযায়ী একটা বউয়ের জন্য তোকে আরো ২৯২০ রাত অপেক্ষা করতে হবে

In ব্লগর-ব্লগর on মার্চ 15, 2008 at 2:08 pm


বিয়ে!
কোন বাক্যে শব্দটা আসলে এগারো বারো বছরের কোন ছেলের মুখটা লজ্জায় নিশ্চয়ই লাল হয়ে যাবে। যেহেতু আমার বয়স এখন একুশ এবং যেহেতু এখন আমি অনেক বড় হয়ে গেছি- তাই বিয়ে শব্দটা- আমাকে লজ্জায় কাবু করতে পারে না বরং আমার মনে এবং শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমার মুখটা চকচক করে ওঠে। মস্তিষ্ক নানান রকম কল্পনা করতে শুরু করে।
রাত তিনটায় হঠাৎ যখন ঘুম ভেঙে যাবে আর যখন বিছানায় পাশ ফিরব তখন আমাকে সাদা দেয়াল দেখতে হবে না- একটা মেয়ের মুখ দেখতে পাব। ইচ্ছে করলেই মেয়েটাকে ছুঁয়ে দেখতে পারব। তারপর…………………………… আবার ঘুমিয়ে পড়ব।

বিজ্ঞজনেরা গাম্ভীর্যের সাথে একটা বিরাট দীর্ঘশ্বাস যোগ করে প্রায় বলে থাকেন।
- বুঝলা। জীবনে আর যা-ই কর বিয়া করবা না কখনো।
যে ছেলেকে তিরিশ বছর ধরে বাবা- মা মানুষ করে, সে ছেলেকে বউ নাকি এক মাসে গাধা বানিয়ে দেয়।
আমি এসব কথা এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে আরেক কান দিয়ে বের করে দিই। বস! একা একা ঘুমায় দ্যাখেন কেমন লাগে। একুশ বছর বয়সে বিয়ে করার জন্য কী রকম হাহাকার করতেন- জানি তো!

বিয়ের পর আমাকে যে বিরাট সমস্যায় পড়তে হবে- এ ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এর প্রধান কারণ- আশেপাশের নারীদের দিকে চোখ দেওয়ার জন্ম পরবর্তী অভ্যাস।

তবে সমস্যার কথা সমস্যার সময় দেখা যাবে। তার চেয়ে দৃষ্টি দেওয়া যাক আনন্দের দিকে। বিয়ের পর কী কী আনন্দ করব কল্পনায় তার এক বিশাল এক তালিকা আমি তৈরি করে রেখেছি। নিচে কয়েকটির বিবরণ দেওয়া হলঃ

* * * * * *

বালিশে হেলান দিয়ে আমি আধশোয়া । আমার বউটা আবার একটু বেশি আহ্‌লাদী। তাই বালিশে মাথা না রেখে আমার বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। আমি প্রচণ্ড তৃপ্তির সাথে একটা বেনসন সিগারেট ধরালাম (এখন অবশ্য গোল্ড-লিফ খাই। তবে আশা করা যায় তখন অবস্থার পরিবর্তন হবে)। বউ ন্যাকা ন্যাকা কন্ঠে বলে উঠল।
- এসব ছাই-পাশ কেন যে খাও। আমি কিন্তু খুব রাগ করছি।
আমি গলে গিয়ে বললাম।
- একবার খেয়ে দেখ। কী যে অসাধারণ জিনিস না খেলে বুঝবা না।
আমাকে অবাক করে দিয়ে বউ আমার হাত থেকে সিগারেট নিয়ে একটা টান দিয়ে দিল। তারপর খুক খুক করে কাশতে লাগল। তারপর…………………আবার আয়েশ করে সিগারেট ধরালাম।
আহা! কী মিষ্টি! কী রোমান্টিক!

বাড়ির ছাদে আমি আর আমার বউ বসে আছি। হঠাৎ ঝম ঝম বৃষ্টি পড়া শুরু করল। আমার দুষ্টু মন বৃষ্টির সাথে সাথে অতিশয় দুষ্টু হয়ে উঠল। তারপর ক্লাস টেনে যেভাবে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম ( সুত্রঃ এইটা) সেভাবে আবার ভেজা শুরু করলাম। সাথে আমার লক্ষ্মী বউ। বউ বলল।
- তুমি এত দুষ্টু না! এখন যদি ছাদে কেউ এসে পড়ে?
ছাদে পাটি পাতা আছে। সুতরাং বৃষ্টিতে ভেজা শেষ হলে ছাদেই শুয়ে পড়লাম…
দৃশ্যটা কল্পনা করতেই আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

* * * * * *

এসব কথা চিন্তা করতে আর ভালো লাগে না। সত্যি সত্যি করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল- আমার বয়স একুশ। বাংলাদেশে একটা ছেলের বিয়ে সাধারণত তিরিশ বছরের দিকে হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী একটা বউ পেতে আমার আরো আট বছর অপেক্ষা করতে হবে এবং কমপক্ষে আরো ২৯২০ টি রাত একা একা ঘুমাতে হবে। ২৯২০ রাত! খুব কষ্টে আছি, বুঝলেন?
পৃথিবীটা এমন কেন? আমার বড় মামা’র বিয়ে হয়েছিল আঠারো বছর বয়সে। বড় মামা নাকি করতে চান নি। আমার নানা জোর করে করিয়ে দিয়েছিলেন। ইস! আমার আব্বু যদি ওরকম হত। ধরা যাক- একদিন আম্মু বলল।
- তোর আব্বুর খুব শখ ঘরে একটা বউ আনা।
আমি প্রথমে খুব লজ্জা পাওয়ার ভান করব- এবং বিরক্ত হব।
- যা! আমার বয়স আর কত? তাছাড়া লেখাপড়া আছে না।
- কী করবি? তোর বাপকে তো চিনিস। তুই রাজি হয়ে যা।
হায়রে পোড়া কপাল! কল্পনা আর কতদিন?

ও! একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি। আমি সচলায়তনকে ভালোবাসি। বিয়ের পর নিশ্চয়ই পুরনো প্রেমিকাকে ভুলে যাব না। আমার দাম্পত্য জীবনে সচলায়তনের অবস্থা কেমন হবে?

সচলীয় কল্পনা

আমি কম্পিউটারের সামনে বসে আছি। ইন্টারনেটে আমার অস্তিত্ব সচলায়তন- মনিটরে। আমার বউ আমার পাশের চেয়ারে। সামনের দিকে ঝুঁকে সচলায়তনে আমার নতুন ব্লগটা পড়ছে। ওর চুল আমার কোলের ওপর। এত মিষ্টি ঘ্রাণ! আমাকে বলল।
- সচলায়তন আমার খুব ভালো লাগে। এই, আমি সচল হতে পারব না?
- পারবা না কেন? লেখা শুরু কর।
বউ লজ্জা পাওয়া কন্ঠে বলল।
- ছোট বেলায় অনেক কবিতা লিখেছিলাম। ওগুলো দেওয়া যাবে?
- অবশ্যই দেওয়া যাবে। মনে আছে কবিতাগুলো?
- তোমাকে তো দেখানো হয় নি। আমার একটা ডায়েরি আছে। ওখানে সব লেখা আছে। দেখাব? হাসাহাসি করতে পারবা না কিন্তু!

অ-সচলীয় বাস্তবতা

সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছি। রাত এগারোটার দিকে একটু সচলায়তনে ঢুকলাম। অনেক দিন কোন কিছু লেখা হয় না। দেখি দুই একটা লেখা পড়ে কমেন্ট করি। সবেমাত্র সচলায়তন লোড হয়েছে। এমন সময় বউয়ের কর্কশ কণ্ঠ শোনা গেল।
- সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাক। সংসারের দিকে একটু খেয়াল দাও এবার।
- এই তো আসছি।
- তাড়াতাড়ি আস। শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ডাক্তারকে বলে ঔষধ নিয়ে আসো। আর ওসব ব্লগিং ফ্লগিং করবা না। খেয়ে দেয়ে কোন কাজ নাই? বাচ্চাগুলার দিকে খেয়াল আছে কোন? কী করে- পড়াশোনা কেমন করছে- খবর রাখ কোন?
আমার একটা মন্তব্যও করা হল না। গোমড়া মুখে- বউয়ের জন্য ঔষধ আনতে ছুটলাম।

  1. জোশ হইছে! হেহেহেহেহে…..

  2. beshi joss..ki chomotkar lekhar haat…irshannito:(

  3. niceeeeeeeeeeee