bokashoka

আদরের দাগ আবার আঁকলাম…

In স্মৃতিচারণ on মার্চ 15, 2008 at 2:04 pm


একঃ
- এখন থেকে আমরা ‘তুমি’ করে বলা প্রাকটিস করব।
তুই খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে কথাটা বলার চেষ্টা করলি। অথচ আমি তোর অদ্ভুত সুন্দর মুখটাতে আদর কিংবা মায়া ছাড়া কিছুই দেখলাম না। তাই হেসে বললাম।
- কেন? হঠাৎ।
- বিয়ের পর যদি জামাই বউকে তুই তুই করে বলে- লোকে কী বলবে বল্‌ তো?
- আমরা কী জামাই বউ হয়ে গেছি না কি?
- ফাইজলামি করলে মাইর খাবি কিন্তু!
তোর মুখটায় কয়েকটা লজ্জার রেখা দেখা গেল।
আদর মাখা মুখে- লজ্জার ছায়া মনে হয় অনেক বেশি সুন্দর লাগে। তাই না?

দুইঃ

টাইগার পাসের পাহাড়টা। নামটা কী যেন?
ইদানীং স্মৃতিশক্তিটা কেমন প্রতারণা শুরু করেছে। কী বিচ্ছিরি অবস্থা। যখন প্রয়োজন হবে না- তখন দেখা যাবে পৃথিবীর সব পাহাড়কে সে নামে ডাকা শুরু করেছি। আর এখন- কিছুতেই নামটা মনে পড়ছে না।
যাক গে! পাহাড়টায় আমি আর তুই বসে আছি। আমার হাতে আটশ টাকা দামের একটা বাংলাদেশি গীটার। হাজারবার গাওয়া গানটা আবার শুরু করলাম। শীতের সকাল গাছের পাতা হয়তবা ঝরে যাবে- থাকব হয়ে আমি নীলাকাশ। তুই কানে আঙুল দিলি।
- এটা কোন গান হল?
- আমার ভাল্লাগে। তোর শুনতে ইচ্ছে না করলে কানে তুলা দিয়ে রাখ্‌।
- উঁ… পাহাড়ের মাঝখানে আমাকে তুলা কে দিবে?

রাত দেড়টায় বাসায় ফোন করলি।
- তোর ঐ পচা গানটা গা তো?
- কোন পচা গান?
- ঢং করিস না। তাড়াতাড়ি গা।
- তাহলে পচা বলবি না আর?
- পচাই তো। ঘুম আসছে না বলে শুনতে চাচ্ছি। পচা জিনিস শুনলে আমার ঘুম ভালো হয়। হি হি হি…
হঠাৎ কোত্থেকে আম্মু বলে ওঠে।
- এত রাতে ফোন করেছে কে রে?
আমি আম্মুকে কোন একটা মিথ্যে কথা বলে দিই।
এমনই একটা মুখের দিকে চেয়ে কেউ কেউ বিশ্ব সংসার তছনছ করে ১০৮ টি নীলপদ্ম নিয়ে আসতে পারে- আমি না হয় মিথ্যা কথা বললাম।

তিনঃ

আইডিয়াটা তোর। এরকম অদ্ভুত আইডিয়া তোর মাথা থেকেই বের হওয়া সম্ভব। সদ্য- সাততলা হওয়া ‘ভি আই পি টাওয়ার’এর রিক্সা দাঁড় করালাম আমরা। লজ্জায় আমার দিশেহারা অবস্থা। তোকে বললাম।
- তুই প্রথমে বল।
- না। আমি না- তুই বল।
- আমি বলতে পারব না। তুই বললে বল- নইলে চলে যাই।
লজ্জায় তোর মুখ লাল হয়ে উঠল। এক হাত আমার হাতে রেখে অন্যহাত ভি আই পি টাওয়ারের দিকে দিয়ে – ফিসফিসিয়ে বললি।
- আমি তোকে ভালোবাসি।
এরপর আমিও বললাম।
চট্টগ্রামের প্রায় অর্ধেক রিক্সায় ঘুরলাম আমরা। প্রত্যেকটা উঁচু বিল্ডিংয়ের সামনে রিক্সা দাঁড় করিয়ে দুজন দুজনকে খুব মিথ্যে কথাটা বললাম।

ভাগ্যিস – উঁচু বিল্ডিং চট্টগ্রাম শহরে তখন খুব বেশি ছিল না। নইলে সেই মিথ্যে কথাটা কত হাজার বার বলতে হত তোকে- ভেবে দেখেছিস!

[[........................................................................
এই সময়কার কথাগুলো বলতে ইচ্ছে করছে না..............................................]

তিন বছর পরঃ

দুই বছর পর তার সাথে আমার দেখা হল। বসুন্ধরা সিটি’র সামনে। সে অনেক কান্নাকাটি করল। বলল আর কখনো ওরকম করবে না। আমি তার দিকে ভালো করে তাকালাম না। কেন জানি তাকাতে ইচ্ছে করছিল না।

যে মুখে অসংখ্য বার শুধু আদরে হাত রেখেছিলাম- সে মুখটায় শুধু একটা চড় দিলাম আমি। সে কিছু বলল না। মাথা নীচু করে কাঁদতে লাগল শুধু। আমি আর কোন কথা না বলে বাসার দিকে রওনা দিলাম। বাসায় গিয়ে কার্ড খেলব। তারপর পড়তে বসব। সামনেই ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা। কিছুই পড়া হয় নি।

—————————————————————————-

এরপর বহুদিন আমার হাত অবশ হয়েছিল।
হয়ত এখনো রয়েছে।
নাহলে এসব কথা লিখতে গিয়ে সবকিছু এমন আঁকাবাঁকা হয়ে যায় কেন?

  1. ভারি সুন্দর গল্পের প্লট। এই লেখাটাই আরো সুন্দরভাবে সচলায়চতনে লিখেছো তুমি। (আমার চেয়ে বয়েসে ছোট হবে তুমি – অনুমান করছি। তাই তুমি করেই বললাম। কিছু মনে করবেনা আশা করি।)

  2. onek shotti mone hochchhe